Thursday, 4 December 2014

শীত রাত - জীবনান্দ দাশ


এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে;
বাইরে হয়তো শিশির ঝরছে, কিংবা পাতা,
কিংবা প্যাঁচার গান; সেও শিশিরের মতো, হলুদ পাতার মতো।

শহর ও গ্রামের দূর মোহনায় সিংহের হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে -
সার্কাসের ব্যথিত সিংহের।

এদিকে কোকিল ডাকছে - পউষের মধ্য রাতে;
কোনো-একদিন বসন্ত আসবে ব'লে?
কোনো-একদিন বসন্ত ছিলো, তারই পিপাসিত প্রচার?
তুমি স্থবির কোকিল নও? কত কোকিলকে স্থবির হ'য়ে যেতে দেখেছি,
তারা কিশোর নয়,
কিশোরী নয় আর;
কোকিলের গান ব্যবহৃত হ'য়ে গেছে।

সিংহ হুঙ্কার ক'রে উঠছে:
সার্কাসের ব্যথিত সিংহ,
স্থবির সিংহ এক - আফিমের সিংহ - অন্ধ - অন্ধকার।
চারদিককার আবছায়া-সমুদ্রের ভিতর জীবনকে স্মরণ করতে গিয়ে
মৃত মাছের পুচ্ছের শৈবালে, অন্ধকার জলে, কুয়াশার পঞ্জরে হারিয়ে যায় সব।

সিংহ অরন্যকে পাবে না আর
পাবে না আর
পাবে না আর
কোকিলের গান
বিবর্ণ এঞ্জিনের মত খ'শে খ'শে
চুম্বক পাহাড়ে নিস্তব্ধ।
হে পৃথিবী,
হে বিপাশামদির নাগপাশ, - তুমি
পাশ ফিরে শোও,
কোনোদিন কিছু খুঁজে পাবে না আর।

Tuesday, 2 December 2014

আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ।
খেলে যায় রৌদ্র ছায়া, বর্ষা আসে বসন্ত।।

কারা এই সমুখ দিয়ে আসে যায় খবর নিয়ে,
খুশি রই আপন মনে- বাতাস বহে সুমন্দ।
সারাদিন আঁখি মেলে দুয়ারে রব একা,
শুভখন হঠাৎ এলে তখনি পাব দেখা।
ততখন ক্ষণে ক্ষণে হাসি গাই আপন-মনে,
ততখন রহি রহি ভেসে আসে সুগন্ধ।।

আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ।
খেলে যায় রৌদ্র ছায়া, বর্ষা আসে বসন্ত।
আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ।

[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

Monday, 1 December 2014

প্রভাতী


ভোর হোলো 
দোর খোলো
    খুকুমণি ওঠ রে!

ঐ ডাকে
জুঁই-শাখে
     ফুল-খুকী ছোট রে!

রবি মামা
দেয় হামা
     গায়ে রাঙা জামা ঐ,
দারোয়ান
গায় গান
     শোনো ঐ, 'রামা হৈ!'

ত্যাজি' নীড়
ক'রে ভিড়
     ওড়ে পাখী আকাশে,
এন্তার
 গান তার
      ভাসে ভোর বাতাসে!

চুল বুল
বুল বুল
    শিস দেয় পুস্পে,

এইবার
এইবার
     খুকুমনি উঠবে!

খুলি'হাল
তুলি' পাল
     ঐ তরী চল লো,

এইবার
 এইবার
      খুকু চোখ খুললো!

আলসে
 নয় সে
      ওঠে রোজ সকালে,

রোজ তাই
 চাঁদা ভাই
        টিপ দেয় কপালে।

উঠল
ছুটল
       ঐ খোকাখুকী সব,

'উঠেছে
আগে কে'
        ঐ শোনো কলরব।

নাই রাত
মুখ হাত
      ধোও, খুকু জাগো রে!
জয়গানে
ভগবানে
     তুমি'বর মাগো রে!

[কাজী নজরুল ইসলাম]