Friday, 2 January 2015

নবীজির আদর্শ 

মিলাদুন্নবী (সা.) ও সিরাতুন্নবী (সা.)  


মিলাদ ও সিরাত দুটি আরবি শব্দ। মিলাদ অর্থ জন্ম আর সিরাত শব্দের অর্থ জীবনচরিত। সুতরাং মিলাদুন্নবী (সা.) অর্থ নবীজির জন্ম আর সিরাতুন্নবী (সা.) এর অর্থ নবীজির জীবনচরিত। নবীজির শুভ বেলাদাত বা জন্মকে স্মরণ করে যে অনুষ্ঠান হয় তাকে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল বলা হয়। আর নবীজির জীবনচরিত আলোচনার জন্য যে অনুষ্ঠান তাকে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল বলা হয়। মিলাদুন্নবী (সা.) শিরোনামে যে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় সেখানে যে শুধুই রাসূলে পাক (সা.) এর জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা হয় তা নয়, বরং সেখানে তাঁর মিলাদসহ জীবনচরিতের বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়। একইভাবে সিরাতুন্নবী (সা.) শিরোনামে যে মাহফিল হয় সেখানে রাসূলে পাক (সা.) এর জন্মবৃত্তান্তকে বাদ দিয়ে জীবনচরিত আলোচিত হয় না বরং জন্ম থেকে শুরু করে পুরো জীবনীই আলোচনা করা হয়।

একজন মুসলমানের ঈমানের দাবি হলো প্রিয়নবী (সা.) এর স্মরণে তাঁর গোটা জীবনকে ভরিয়ে রাখা। এশকে রাসূল (সা.) যার মধ্যে সক্রিয় সে ব্যক্তি শয়নে-স্বপনে, নীরবে-সরবে, অন্তরে-বাইরে, কথায়-কাজে, লেখনীতে-বক্তৃতায়, একাকী-মাহফিলে সর্বদাই তাঁর প্রিয়তম রাসূলের স্মরণে ব্যাপৃত থাকে। আশেক মজনুকে কেউ মরু বালুকার ওপর লাইলির নাম লিখতে দেখে বলেছিলেন, তুমি নির্বোধের মতো বালুর ওপর নাম লিখছ, এটা তো একটা বাতাস এলেই মিটে যাবে। তখন সে জবাব দিয়েছিল, সেটা আমিও জানি। তবে আমি এটা করছি আমার অন্তরকে প্রবোধ দেয়ার জন্য। আসলেই অস্থির প্রেমিক-হৃদয় প্রেমাস্পদের স্মরণে একটু শান্তির সন্ধান খুঁজে পায়। তাই সে তার প্রেমাস্পদকে স্মরণ করার বাহানা খুঁজে বেড়ায়। খোদ আল্লাহ রব্বুল আলামিন যেই নবীজিকে প্রেমাস্পদ উপাধিতে ধন্য করেছেন, যার মনোতুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন, যার স্মরণকে সুউচ্চ করেছেন সেই নবীজির উম্মত হতে পেরে প্রতিটি মোমিন হৃদয় ধন্য, প্রতিক্ষণে তার স্মরণে উন্মুখ। নবীজিকে স্মরণ করা, তাঁকে ভালোবাসা উম্মতের জন্য ইবাদত। তা যদি নাও হতো আর এর ফজিলতের ঘোষণা নাও থাকত তারপরও প্রকৃত মোমিন তাকে স্মরণ না করে থাকতে পারত না।

নবীজির স্মরণকে বিশেষ কোনো পদ্ধতির মধ্যে সীমিত করা সঙ্কীর্ণ মানসিকতার পরিচায়ক। তবে একথাও অনস্বীকার্য যে, তাকে স্মরণ করতে গিয়ে এমন কিছু করা যা তার শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী অথবা এমনভাবে স্মরণ করা যাতে বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচার অনুসরণ করা হয়, এটা নিঃসন্দেহে অনুমোদনযোগ্য নয়। এটা প্রকৃতপক্ষে তার স্মরণ নয়। কারণ তাঁর স্মরণ তো তার ভালোবাসাকে জাগরুক করবে, তার নীতি-আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলবে। তার অনুসরণ অনুকরণে ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করবে। যে স্মরণের মধ্যে এটা অনুপস্থিত সে স্মরণ নিছক মেকি এবং প্রহসনের নামান্তর। সুতরাং রাসূলে পাক (সা.) এর স্মরণ, তার মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান আর সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান যেভাবেই হোক না কেন তা যেন মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত না করে সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

মিলাদুন্নবী আর সিরাতুন্নবী নিয়ে দ্বন্দ্ব করা কি রাসূলে পাক (সা.) এর শিক্ষা ও আদর্শ, নাকি তাঁর স্মরণ ও ভালোবাসার প্রমাণ?

মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী (সা.) যে নামেই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য থাকতে হবে দুটি। একটি হচ্ছে রাসূল (সা.) এর ভালোবাসায় আমাদের ঈমান তেজোদ্দীপ্ত করা এবং অন্তর আলোকিত করা। অপরটি রাসূল (সা.) এর আদর্শ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণের জ্ঞান আহরণ এবং তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করা। রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, 'তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি (রাসূল) তার কাছে তার বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে প্রিয়তর না হই।' নবীজির ভালোবাসা লাভ করতে হলে তাঁকে ভালোভাবে জানতে হবে। তিনি যে মহান আদর্শ নিয়ে বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন, তা হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। তবেই তাঁকে ভালোভাবে জানতে পারব এবং তখনই তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা যথার্থ হবে। এজন্যই প্রয়োজন তার জীবনী বা সিরাত নিয়ে আলোচনা।

দুঃখজনক হল, আমাদের মতভেদ কোথাও কোথাও ফেতনা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের রূপ পরিগ্রহ করে। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটা অবশ্যই কল্যাণকর নয়। তাই আহ্বান থাকবে, আমরা যেন সবাই একটু সহনশীল ও উদার মানসিকতার পরিচয় দিতে পারি। সিরাত ও মিলাদ নিয়ে অহেতুক দ্বন্দ্ব করে মুসলিম উম্মাহকে আরও বিভক্ত হতে প্ররোচিত না করি।

[লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুম মুনীর তাওহীদ, মোহাদ্দেস, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসা]

Thursday, 1 January 2015

শুভ হোক মসিহী নববর্ষ ও ঈদে মিলাদুন্নবী

প্রেমের নবী, ক্ষমার নবী হজরত ঈসা মসিহ আলাইহিস সালামের নামাংকিত নববর্ষ ২০১৫-এর আগমন সমগ্র বিশ্বব্যাপী ও মানবমণ্ডলীর জন্য বয়ে আনুক শুভ বার্তা ও শান্তি। দুখী, অসহায়, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষকে অভয় দিতে এবং ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের পথে নিয়ে যেতে যে ঈসা বা যীশুর আগমন হয়েছিল যিনি আজীবন এ পথে সংগ্রাম করে গেছেন, তার ইচ্ছা ও আদর্শ আজ বিশ্বব্যাপী বিস্মৃতই শুধু হচ্ছে না, বরং তার জন্মস্থানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র অশান্তি, যুদ্ধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০১৫ এবং বড় দিন এবার আরেকটি অতি মহান উপলক্ষ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মাস রবিউল আউয়ালের সহগামী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তথা মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক সৌভাগ্য বার্তা বয়ে এনেছে। খাতেমুল আম্বিয়া হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এবং হজরত ঈসা মসিহ (আ.)-এর ঐশী বাণী যেখানে এক ও অভিন্ন তথা সাম্য, শান্তি, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছেন সেখানে বড়ই পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে আমাদের দেশসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে অশান্তি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আজ সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে গ্রাস করে নিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, অধিকৃত ফিলিস্তিন, লিবিয়া প্রভৃতি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে চলছে ভয়াবহ খুন-খারাবি, ভ্রাতৃহত্যা, গৃহযুদ্ধ, শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্মের অপব্যাখ্যা, ধর্মের দোহাই দিয়ে দানবিক সন্ত্রাস ও অপকর্ম। অথচ আমাদের পথনির্দেশক আম্বিয়া কেরাম, বিশেষ করে হজরত ঈসা মসিহ এবং খাতেমুন্নবী রাসূলে করিম আল্লাহতায়ালার নির্দেশে মানব জাতির জন্য পরম শান্তির বাণী নিয়ে এসেছিলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা শান্তি, ইনসাফ, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে আমাদের সামনে চির অনুসরণীয় আদর্শ দিয়ে গেছেন। যা মুসলিম সমাজ ও দেশগুলোতে আজ অকল্পনীয়, তাই ইবলিস শয়তান, তার অনুচর বিদেশী শক্তি ও নিজ নফসের ইন্ধনে আমরা জড়িয়ে পড়ছি আত্মকলহ, আত্মঘাতী সন্ত্রাস এবং প্রতিশোধপরায়ণ জঙ্গি তৎপরতায়। এই অমানবিক ও দানবিক কর্মকাণ্ড কোনো বিবেকবান মানুষই সমর্থন করে না। মুমিন মুসলমান দাবিদারদের জন্য তো প্রশ্নই উঠে না।

সমগ্র বিশ্ব ও মুসলিম দেশগুলোর শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়কামী মানুষ আম্বিয়া-আউলিয়ার প্রদর্শিত প্রেমের পথে, শান্তির পথে চলতে চায়। প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহপাক মুসলিম জাতি তথা ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থী ঈমানদারদের সৃষ্টি করেছেন। এ আসমানি ও মানবিক লক্ষ্য ও আদর্শ নতুন বছর ২০১৫-তে বাস্তবায়িত হোক আমরা জোর দিয়ে এ কামনা করি। শুভ হোক মসিহী নববর্ষ ও ঈদে মিলাদুন্নবী।


ইসলাম ও জীবন ডেস্ক:
© www.jugantor.com/islam-and-life/2015/01/02/198883#sthash.cg7kgyZp.dpuf

আল্লাহ আমার প্রভু



আল্লাহ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়।
আমার নবী মোহাম্মদ, যাঁহার তারিফ জগৎময়।।

আমার কিসের শঙ্কা,
কোরান আমার ডঙ্কা
ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়।।

কালেমা আমার তাবিজ, তৌহিদ আমার মুর্শিদ,
ঈমান আমার ধর্ম, হেলাল আমার খুর্শিদ।
'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি
আমার জেহাদ- বাণী?
আখের মোকাম ফেরদৌস খোদার আরশ যেথায় রয়।।

আরব মেসের চীন হিন্দ মুসলিম- জাহান মোর ভাই,
কেহ নয় উচ্চ কেহ নীচ, এখানে সমান সবাই।
এক দেহ এক দিল এক প্রান,
আমীর ফকির এক সমান,
এক তকবীরে উঠি জেগে, আমার হবেই হবে জয়।।

[-কাজী নজরুল ইসলাম-]