পড়াই প্রথম বাণী । পড়ার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে আমার প্রচেষ্টা । কবিতা আমার ভীষণ প্রিয় । Poetry touches my mind, moves me and makes me and forget self. তাই আমার প্রিয় কিছু কবিতা, প্রবন্ধ ও আরো কিছু বিষয় দিয়ে সাজিয়েছি আমার এ বর্ণমালার ঊচ্চারনের ব্লগ । এখানে বেড়াতে এসে যদি আপনার মনে সামান্য প্রশান্তির ছোঁয়া লাগে, তবে ভাববো আমার প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে ।
Wednesday, 1 April 2015
জামায়াত যার বন্ধু তার শত্রুর দরকার নেই
টানা অবরোধের ৬৬ তম দিনে এই লেখা লিখছি। পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই জানতে চান, দেশে যা বলছে তার শেষ কোথায়, কীভাবে? কিন্তু এ জিজ্ঞাসার জবাব কে দেবেন বা দিতে পারবেন, আমার জানা নেই। ৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলছে। এর সঙ্গে সপ্তাহে ‘তিন যোগ দুই’ দিন থাকছে হরতাল। পাঁচ দিনের হরতাল একবারে না ডেকে প্রথমে রবিবার ভোর ছয়টা থেকে বুধবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত; পরে আবার বুধবার ভোর ছয়টা থেকে শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত– এ রকম ভেঙে ভেঙে ডাকা হচ্ছে।
এভাবে হরতাল ডেকে কী রাজনৈতিক ফায়দা হচ্ছে সেটা কেউ বুঝতে পারছে না। এর তাৎপর্য কেবল খালেদা জিয়াই হয়তো জানেন। দেশের মানুষ কি বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা অবরোধ-হরতাল মেনে নিচ্ছে? রাস্তায় বের হলে অবরোধ-হরতালের ছাপ কতটুকু দেখা যায়? নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা না-হওয়া ছাড়া হরতাল-অবরোধের কারণে আর কিছু বন্ধ থাকছে কি? এমন ফ্লপ রাজনৈতিক কর্মসূচি দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে বড় বিস্ময়কর ঘটনা আর কী হতে পারে!
দেশে প্রধান সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক– এই দাবির প্রতি যত মানুষের সমর্থন আছে, এই দাবি আদায়ের জন্য অবরোধ-হরতালের মতো কর্মসূচির প্রতি সমর্থন তার খুব কম অংশেরই আছে। কারণ এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রাস্তায় দেখা যায় না। রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যানবাহনে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। রেল লাইন তুলে ফেলা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘গণতন্ত্র উদ্ধারের চলমান’ আন্দোলনে ১২১ জন নিরীহ-নিরপরাধ মানুষ চিরদিনের মতো না-ফেরার দেশে চলে গেছেন। এখনই এই সহিংস অবরোধ-হরতাল বন্ধ না হলে মৃত্যুর মিছিলে হয়তো আরও অনেককেই শামিল হতে হবে।
এখনই এই সহিংস অবরোধ-হরতাল বন্ধ না হলে মৃত্যুর মিছিলে হয়তো আরও অনেককেই শামিল হতে হবে, কারণ অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি চললেও ঝুঁকি নিয়ে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। প্রথমদিকে রাজধানী ঢাকার বাইরে এসবের কিছু প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও, দিন যত যাচ্ছে ততই দেশের প্রায় সর্বত্র হরতাল-অবরোধ শিথিল হয়ে পড়ছে। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়ার ভয় উপেক্ষা করে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা ঢাকার বাইরেও প্রতিদিনই বাড়ছে। ঢাকায় তো রীতিমতো যানজট দেখা যাচ্ছে।
শুধু কি সাধারণ মানুষই এসব উপেক্ষা করছে? বিএনপি নেতারাও নিজেদের ডাকা অবরোধ-হরতাল মানছেন না। ‘হরতালে সব চালু বিএনপি নেতাদের’ শিরোনামে দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’ ১২ মার্চ প্রধান প্রতিবেদন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
‘‘সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় টানা অবরোধ ও ঘন ঘন হরতাল ডাকলেও জোটের প্রধান শরিক বিএনপি নেতাদের হরতাল-অবরোধ পালনের কোনো বালাই নেই। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, পরিবহন, দোকানপাট, অফিস-প্রতিষ্ঠান– সবই চালু রয়েছে। অথচ অবরোধ-হরতালের নামে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে পেটের দায়ে, জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামা নিরীহ মানুষকে। পঙ্গু করে ফেলা হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।’’
প্রতিবেদনে বিএনপি নেতাদের কোন কোন শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলছে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির জেলা পর্যায়ের একজন নেতা ‘যেসব বিএনপি নেতার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে তাদের সশরীরে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত নেতাকর্মীরা আজ জেল-জুলুম ও হুলিয়ার শিকার। অথচ যারা নমিনেশন আনার জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে দৌড়ঝাঁপ করেন, তারা আন্দোলন-সংগ্রামে তো থাকেনই না, বরং তাদের মিল-কারখানা খোলা রয়েছে। এটা তাদের স্ববিরোধী কর্মকাণ্ড।’
বেগম জিয়া এবং তাঁর উপদেষ্টারা কেন এটা বুঝতে পারছেন না যে, পেট্রোল বোমা, ককটেল ফাটিয়ে, সন্ত্রাস করে দাবি আদায় করা যাবে না। শুধু বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই কোনো সরকার সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করে না, করতে পারে না। বিএনপির আহ্বানে যদি হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসত, তাহলে সরকারের পক্ষে অনঢ় অবস্থানে থাকা সহজ হত না। প্রকৃত গণতান্ত্রিক আন্দোলন যেখানে হয় সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ কিংবা সরকারের পেটোয়া বাহিনী হামলা চালায়, অত্যাচার-নির্যাতন করে। আর এবার আমাদের এখানে ‘আন্দোলনকারীরা’ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে, তাদের পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে মারছে। সরকারের জন্য এটা আবার বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে। তারা সহজেই একে ‘জঙ্গিবাদী কার্যক্রম’ বলে প্রচার করতে পারছে।
নিরীহ মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করায় দেশে-বিদেশে কোনো মহল থেকেই বিএনপির পক্ষে সহানুভূতি পাওয়া সহজ হচ্ছে না। এই অবস্থায় কিছু না পেয়ে খালি হাতে বিএনপি কীভাবে সরে আসবে, এ প্রশ্ন বিএনপি-দরদিরা তুললেও সরকার তাতে কান দিচ্ছে না। তারা যদি এখন বিএনপি-জামায়াতের কাছে নতি স্বীকার করে তাহলে সেটা ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি ‘অত্যন্ত বাজে’ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বলা হচ্ছে, মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এই অবস্থায় কেউ কেউ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের কথা বললেও সরকার আলোচনায় বসতে চাইছে না। পেট্রোল বোমা হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ জিম্মি করে সরকারকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা যায় না। এটা সঠিক রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে না।
প্রশ্ন আসে, সরকার যদি নমনীয়তা না দেখায় তাহলে বর্তমান অবস্থা কি চলতেই থাকবে? এই প্রশ্নের জবাবে এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার সুযোগ নেই। বর্তমান এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলবে না, আবার রাতারাতি এর পরিসমাপ্তিও ঘটবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও বেশি কঠোরতা এবং সক্রিয়তায় বোমাবাজরা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। মাঝেমধ্যে বোমাবাজি চললেও তা এক সময় মানুষের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে কত রকম দুর্ঘটনাই তো ঘটতে পারে! মানুষ মারার রাজনীতিকেও একসময় ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবেই হয়তো দেখা হবে। তবে এ মুহূর্তে সরকারকে আরও ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আন্দোলনে বিএনপির সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ বন্ধ করে ওদের পিছিয়ে আসার স্পেস তৈরি করে দিতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্ব স্বীকার না করলেও এটা অনেকের কাছে স্পষ্ট যে, তাদের রাজনীতি এখন পরিচালিত হচ্ছে জামায়াতের প্রভাবে। তাদের মতো একটি বড় দল, যারা নিজেদের ‘গণতান্ত্রিক’ বলে দাবি করে, তাদের জামায়াতনির্ভর হয়ে পড়াটা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। দেশে যেসব উগ্রবাদী ধর্মভিত্তিক সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো-না-কোনোভাবে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আছে। এটা নিয়ে কেউ ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, বিতর্ক করতে পারেন, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। বিষয়টি যারা এখনও অস্বীকার করেন, তারা জেনে বা না জেনে দেশটাকে ভয়াবহ বিপদের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন। ধর্মের নামে উগ্রবাদীরা বিভিন্ন দেশে কী বীভৎস হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তা কি আমরা দেখতে পাচ্ছি না?
ধর্মের নামে উগ্রবাদীরা বিভিন্ন দেশে কী বীভৎস হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তা কি আমরা দেখতে পাচ্ছি না
ধর্মের নামে উগ্রবাদীরা বিভিন্ন দেশে কী বীভৎস হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তা কি আমরা দেখতে পাচ্ছি না
২০-দলীয় জোটের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হচ্ছে না। কেন এই দূরত্ব, বিচ্ছিন্নতা? রাজনীতি-সচেতন সবারই এ প্রশ্নের জবাব খোঁজা উচিত। রাজনীতির নামে প্রতিহিংসাপরায়ণতা, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-সহিংসতা চালানোর কারণে মানুষের মনে বিএনপি সম্পর্কে এক ধরনের বিরূপতা তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে। এমনকি যারা বিএনপিকে ভোট দেন, তারাও দলটির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে একাত্ম হতে পারছেন না। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতের ওপর বিএনপির অতিমাত্রায় নির্ভরতার বিষয়টি মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ, স্বেচ্ছাচারী মনোভাব, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে মানুষের সমর্থন যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির দিকেই যাওয়ার কথা, তারা তখন সাধারণ মানুষের ওপর আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা না ভেবে জামায়াত ও বিদেশনির্ভর হয়ে দ্রুত ফললাভের আশায় সন্ত্রাস-নাশকতার হঠকারিতার পথ গ্রহণ করেছে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন সুশীল সমাজে এবং আওয়ামী বিরোধী মহলে যতটা অগ্রহণযোগ্য হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে ততটা নয়। ওই নির্বাচন নিয়ে মানুষ মারাত্মক ক্ষুব্ধ হলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত ও উত্তপ্ত হয়ে উঠত, যেমনটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। নির্বাচন হওয়া না-হওয়া নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দেশে যে অরাজক অবস্থা তৈরি করেছিল, সাধারণ মানুষ তা পছন্দ করেনি। নির্বাচন ভালো হয়েছে কী মন্দ হয়েছে, তার চেয়ে মানুষের কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল জীবনের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কারণে দেশের বাইরে সরকারের গ্রহণযোগ্যতার সংকটও অনেকটাই কেটে গেছে। দেশ যখন স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছিল, তখন অবরোধ-হরতালের মতো সহিংস কর্মসূচি কারও প্রত্যাশিত ছিল না।
জামায়াতের সমর্থন ও সহযোগিতায় সন্ত্রাস-নাশকতার পথে গিয়ে বিএনপি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তা নিরাময়ের উপায় তাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। আমেরিকা যার বন্ধু তার যেমন শত্রুর প্রয়োজন হয় না, তেমনি জামায়াত যে দলের মিত্র তার সর্বনাশের জন্য অন্য কারও শত্রুতার প্রয়োজন নেই।
বিএনপি নেতৃত্ব যত তাড়াতাড়ি এটা বুঝতে পারবে, দল ও দেশের ততই মঙ্গল।
বিভুরঞ্জন সরকার: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
এসো হে বৈশাখ :- পয়লা বৈশাখ বাঙালির মনের স্টিফেন কথা
নক্ষত্রের নাম অনুযায়ী রূপান্তরপূর্বক অপভ্রংশ হয়ে "বৈশাখ" শব্দটি এসেছে। বৈশাখ আমাদের হূদয়ের অঙ্গীকারের মাস। হাসি-কান্নার আবর্তে ঝড়ে মন শক্ত হবার মহড়ার মাস। আর হলো সৃষ্টির রুদ্র লগন ও দামাল ছেলেদের কাঁচা-মিঠা আমের মাস এবং মধু মাস জ্যৈষ্ঠের আগমনী সারথী; কিন্তু এ বৈশাখ তথা বাংলা মাসের পিছনে কিছু জানা ও অজানা ইতিকথা আছে, যা বাঙালি হিসেবে জানা একান্ত আবশ্যক। স্মরণকালের অতিপ্রাচীন সেই সব নববর্ষের দিকে যদি ফিরে তাকাই, তাহলে মনের বাতায়নে উদ্ভাসিত হয় যে, আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ব্যাবিলনে নববর্ষ উদযাপিত হতো, যার স্থায়িত্ব ছিল একটানা এগারো দিন। তাছাড়া পারস্যে নওরোজ নববর্ষ উত্সব কম প্রাচীন নয়। উল্লেখ্য যে, এর আগে আরবী ভাষা-ভাষিরা মুহাররমের প্রথম দিন নওরোজ হিসেবে নববর্ষ পালন করতো, যা অন্তর দিয়ে এখন পর্যন্ত পারস্যবাসীরা ধরে রেখেছে। এদিকে পাঞ্জাবীরা (শিখ) ১ বৈশাখের উপর অতীব গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রাচীন ভারতবর্ষে যে কয়টি অব্দ (সন) প্রচলিত ছিল, তার মধ্যে উল্লখযোগ্য হলো- হর্ষাব্দ, বিক্রমাব্দ, শকাব্দ, বল্লাব্দ ও গুপ্তাব্দ। এ সকল অব্দই সৌর বত্সর (Solar Year) ভিত্তিক। তবে সুদূর অতীত থেকে ভারতীয় বর্ষপঞ্জি যে দুইটি মৌলিক বিধি মেনে চলছে, তা হলো প্রথমত ফসলী, ধর্মীয় (সনাতনী) ও খাজনা আদায় সংক্রান্ত (এটি যেন ঋতুর নকিব) দ্বিতীয়ত যে কথাটি আসে, তাহলো ঋতুর আওতাধীন অনুষ্ঠানের দিন পল, লগন, প্রহর এবং তিথি দ্বারা স্থিরকৃত।
যাহোক, প্রাচীনকাল থেকে এ অবনীতে সময়-গণনা মানুষের একটি সহজাত (Co-herent) প্রবৃত্তি, যা ধীরে ধীরে বিভিন্ন আঙ্গিকে নানা সময়ে একক হিসেবে প্রবর্তিত হয়েছে। এ বিশ্বে গোষ্ঠী ভিত্তিক অসংখ্য সন ও তারিখ আছে, তন্মধ্যে সচরাচর হাতে গোনা কয়েকটি আমরা জানি। উল্লেখ্য যে, প্রাচীন শকাব্দ সনের পথ ধরে প্রবর্তিত হয়েছে সম্বত্, মঘী, নেপাল, ত্রিপুরাব্দ, লক্ষণ, পরগণাতি, শাহুর, হিজরী, ঈসায়ী বা খৃস্টীয়, বঙ্গাব্দ, জালালী সন ইত্যাদি। এর কোন কোনটা সৌরবর্ষে, আবার কোন কোনটা চান্দ্রবর্ষে গণনা করা হয়ে থাকে। একটু গভীরে যদি যাই, তাহলে দেখি চতুর্থ মাত্রা (4th Dimension of Length, Breadth, Hight & Time) হিসেবে সময় (Time) আছে বলে গতি (Motion) আছে এবং নিউটনের সূত্রের আওতায় যোগ হয়েছে বস্তু (Matter)। সত্য কথা বলতে কি, সময় না থাকলে সবকিছু অচল তথা সীমাহীন ওজন নিয়ে চিরস্থির থাকতো। তখন বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে কোন কিছু অর্থাত্ এমনকি "Nothing" বলেও কিছুই থাকতো না। এ বিষয়ে সময়ের ইতিহাস (History of the Time) সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক ডব্লিউ হকিংস কৃষ্ণ গহ্ববের (Black Hole) আলোকে অনেক কিছুর অবতারণা করেছেন। অবশ্য ইসলামী দশর্নের আলোকে সময় গণনার পিছনে যে, শাশ্বত কথাটি কাজ করেছে, তার সূত্রপাত হয়েছে পবিত্র কালামে, কেননা আল্লাহতালা বিশ্বজনীনভাবে ঘোষণা দিয়েছেন- "আকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই বছর গণনার মাস হবে বারটি"।
মূলত সনাতনীরা বাংলা সনকে যতটা গুরুত্ব দেন, মুসলিমরা ততটা নয়। যদিও বাংলা সনটির উত্পত্তি হিজরী (Muslim Oriented) সাল থেকে। এ দিকে সন এবং সাল শব্দ যথাক্রমে আরবী ও ফারসী শব্দ থেকে এসেছে এ অঞ্চলে। উল্লেখ্য, ১২০১ খৃস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খিলজী বাংলাদেশে মুসলীম শাসনের গোড়াপত্তন করলে হিজরী সাল রাষ্ট্রীয় সাল হিসেবে প্রচলিত হয়। উল্লেখ্য যে, তখন রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে হিজরী সালকে গুরুত্ব দেয়া হয়; কিন্তু এতে কৃষাণদের উপর ক্লেশকর ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার সৃষ্টি করে। কেননা চান্দ্র (Lunar) এবং সৌর (Solar) বর্ষের মধ্যে ব্যবধান স্বরূপ প্রতি বছর ১১/১২ দিন এগিয়ে আসার কারণে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। কেননা হিজরী সালের ১২ মাস সৌর ৩৬ বছরে একটি চক্র (Circuit) রচনা করে। যাহোক, চান্দ্রবর্ষ অনুযায়ী খাজনা (ভূমি কর) আদায় অথচ ফসল কাটার সময় (Harvesting time) হলো সৌর বছরের অন্যতম শাশ্বত বাস্তবভিত্তিক প্রতিফল। এ জটিল বিষয়টি বিচক্ষণ মহামতী বাদশা আকবর অনুভব করেন এবং তা সুরাহা করার লক্ষ্যে তিনি হিজরী সালের (মহরম প্রথম মাস) পবিত্রতা রক্ষাকরণপূর্বক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও অংকশাস্ত্রবিদ আমির ফতেহুল্লাহ্ সিরাজীকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেন। বিচক্ষণ বাদশা আকবর সভাসদসহ (নবরত্ব) ফতেপুুর সিক্রিতে রাজ সভায় বেশ কয়েক দফায় পর্যালোচনা করতঃ সবই ঠিক রাখেন; কেবল ঋতুর সাথে সম্পৃক্ততা রেখে গণনার নির্দেশ দেন এবং তদানুযায়ী বাংলা সনের সূচনা। উল্লেখ্য যে, এ দিন ছিল হিজরী ২ রবিউসসানি, রোজ শুক্রবার, ইংরেজি ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ইং সাল। আর তখন থেকেই প্রকারান্তরে পয়লা বৈশাখের পদচারণা শুরু।
মো. আবদুল বাকী চৌধুরী নবাব , লেখক :গবেষক
E-mail: abdulbaki85@yahoo.com
হলুদ সবুজ হেমন্তের নেয়ামত
কুয়াশার চাদরে ঢাকা দিগন্ত বিস্তৃত শিশিরভেজা ধান ক্ষেতে সূর্যের পরশ।
হালকা বাতাসের দোলায় চিকচিক করা শিশিরবিন্দু খসে পড়া। ধানের শীষে সারা বছরের খোরাকের বার্তা। এই তো কয়েক দিন পরই কৃষকের ঘরে উঠবে সোনারাঙা ধান। সবুজ ঘাসে শিশিরের কোমল স্পর্শ
সময়ের মালিক সময়কে আবর্তিত করেন; প্রকৃতির গায়ে এঁকে দেন দৃষ্টিনন্দন আল্পনা। সে আল্পনা একেক সময় একেক রূপে উদ্ভাসিত হয়। উদ্ভাসিত সেই অনন্য রূপকে আমরা দেখি নানা ঋতু হিসেবে। ১২ মাসের ছয় ঋতু নিয়ে আমাদের এ বাংলাদেশ। কালের আবর্তনে, প্রকৃতির বিবর্তনে সবুজের চাদরে নেমে আসে ষড়ঋতুর অনুপম রূপবৈচিত্র্য। ছয়টি প্রকৃতির ক্যানভাসে ভেসে ওঠে ছয়টি অনিন্দ্য শিল্পকর্ম। সুন্দরপিয়াসী মনে নিয়ে আসে চঞ্চলতা। বোধের দিগন্তে হেসে ওঠে অনন্ত রূপের আধার ও রূপ-রস-ছন্দ-আনন্দের মালিকের অলোক সক্ষমতা। ঘোরলাগা অনুভবে ভাবুকের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, 'তোমার সৃষ্টি যদি হয় এত সুন্দর/না জানি তাহলে তুমি কত সুন্দর...'
এ সময়ের পালাবদলে প্রকৃতিতে আসে হেমন্তকাল। হেমন্ত হলুদের কাল, সবুজের কাল, মৌ মৌ আমন ধানের আগমনীর কাল। হলুদ চাদরে ঢাকা প্রকৃতির কাল। প্রভাতে সূর্যের কিরণে ধান গাছের সুচালো অগ্রে শিশির নামা হিরক দানার আনন্দ কাল। মায়াবি প্রকৃতির মনোলোভা রূপে পৃথিবীর সজীবতার কাল।
ছয় ঋতুর অন্যতম সুন্দর ও আরামদায়ক একটি হলো হেমন্ত। কবির ভাষায় ঋতুরানী। শুভ্র শরতের পরেই প্রকৃতিকে দৃষ্টিসুখ আনন্দে হাসাতে মাটির প্রতিবেশে জেগে ওঠে সরষে হলুদ হেমন্ত। কার্তিক আর অগ্রহায়ণের এ সময় দিনের সূর্য ঢেলে দেয় মায়াবি রোদ। রাতের আকাশে শুভ্রসজাগ থাকে রুপালি তারকারাজি। শুক্লপক্ষের চাঁদের নীলাভ জোছনা দেয় মন ভালো করা অনুভূতি। পূর্ণিমা হয়ে ওঠে শিশির ধোয়া রুপার থালা। মৃদু ছন্দ তুলে শিশির নেমে আসে ঘাসের ডগায়। সবুজ ধানের ক্ষেতে শুরু হয় শিশির আর দুধ-সাদা জোছনার মাখামাখি ভালোবাসা। প্রভুর প্রেমিক পুরো প্রতিবেশে শুনতে পায় রব্বে আলার গুণগান। শিশিরের ছন্দ-শব্দে মূর্ত হয় সুরেলা জিকির। আল্লাহর গোলাম ছুটে যায় জায়নামাজে। অবনত কপাল নেমে আসে তাঁর উদ্দেশে শুকরিয়া সেজদায়। প্রশংসার অনিন্দ সঙ্গীত সুর তোলে যায় ইন্দ্রীয় থেকে ইন্দ্রিয়ান্দরে।
প্রভাতি সমিরণে শীতের আগমন ধ্বনি। ঘাসের ডগায় শিশিরকণা মুক্তাদানা হয়ে হেসে ওঠে। সবুজ ধানের ক্ষেত কুয়াশাস্পর্শে হয়ে ওঠে আরও সজীব সুন্দর। রকমারি ধানের নানা ঘ্রাণে মনের ভেতর শুরু হয় মোহঘোর আন্দোলন। পোলাও ধানের ক্ষেতের আলে দাঁড়ালেই পেটের ক্ষুধা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কৃতজ্ঞ বান্দার মুখে ও মনে অজান্তেই উচ্চারিত হয় 'আলহামদুলিল্লাহ'। মাঠের পর মাঠ সরিষার হলুদ ফুল দেখে মনে হয় প্রকৃতি তার হলুদ অাঁচলের আদরে ঢেকে দিয়েছে পুরো বাংলাদেশ। সবুজ ধান আর সরষে হলুদ দিয়ে শুরু হওয়া হেমন্ত একসময় হয়ে ওঠে ঐশ্বর্যের সোনালি রঙ সোপান। ধনি-গরিব সবার মুখে লেগে থাকে অকৃত্রিম হাসি। বাংলাদেশজুড়ে নেমে আসে এক ঐশী সুখের সুবাতাস।
হেমন্তের শেষের দিনগুলোয় সবুজ মাঠ ক্রমে সোনালি রঙে আর হলুদ সরষে ধূসর রঙে বদল হতে থাকে। কাঁচা সবুজ ধান ও হলুদ সরিষার ফুলে ভর করে রিজিক। ধানের পেটে চালের বেড়ে ওঠা আর সরিষার পেটে তেলের বেড়ে ওঠায় কৃষকের আকর্ণ হাসির আড়ালে জেগে ওঠে মহামহিমের কৃতজ্ঞতা। কাস্তে হাতে কৃষকের ধান কাটার অপরূপ দৃশ্যে ছবি হয়ে ওঠে পুরো বাংলাদেশ। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে সুবাসিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বাদামি খড়ের বিচালিতে পথ-ঘাট-মাঠ হয়ে ওঠে কুদরতের বিছানা। আমনের ফলনে রিজিকের ফয়সালা হয় মানুষ, পশু আর পাখির। ভোরের নাশতায় হেসে ওঠে শুভ্র খই। সেই সঙ্গে খেজুর গুড় ও রসের শুরু হয় আগমনী গান।
হেমন্তের আবহাওয়া থাকে নাতিশীতোষ্ণ। শেষের দিকে শুরু হয় শীতের আগমন। রাত হতে থাকে দীর্ঘ। প্রেমিক বান্দার ঘুম ভেঙে যায় রাতের শেষে। গ্রীষ্মকালে রাত ছোট থাকায় অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তে পারেন না। হেমন্ত আসতেই রাত দীর্ঘ হতে শুরু করায় তাহাজ্জুদের সুবর্ণ সুযোগ এটি। সমগ্র ভালোবাসার নৈবেদ্য নিয়ে হাজির হয় প্রভুর দরবারে। চোখের জলে নেমে যায় পাপের অতীত। মহান আল্লাহ বান্দাকে এমন নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতি দেয়ার একটা উদ্দেশ্য, বান্দা শান্তি ও আরামের সঙ্গে মশগুল হবে ইবাদতে।
যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন, কোরআন তাদের মুহসেন ও মুত্তাকি নামে অভিহিত করে। তাদের আল্লাহর রহমত এবং আখেরাতে চিরন্তন সুখ সম্পদের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই মুত্তাকি লোক বাগ-বাগিচায় এবং ঝরনার আনন্দ উপভোগ করতে থাকবে এবং যে নিয়ামত তাদের পরোয়ারদিগার তাদের দিতে থাকবেন, সেগুলো তারা গ্রহণ করবে। (কারণ) নিঃসন্দেহে তারা এর আগে (দুনিয়ার জীবনে) বড় পুণ্যবান ছিল। তারা রাতের খুব অল্প অংশেই ঘুমাত এবং শেষ রাতে এস্তেগফার করত। (কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চাইত)'। (সূরা জারিয়াত : ১৫-১৮)।
রাসূল (সা.) বলেছেন, রাতের শেষ সময়ে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার দিকে নাজিল হন এবং বলেন, 'ডাকার জন্য কেউ আছে কি, যার ডাক আমি শুনব; চাওয়ার জন্য কেউ আছে কি, যাকে আমি দেব; গোনাহ মাফ চাওয়ার কেউ আছে কি, যার গোনাহ আমি মাফ করব?' (বোখারি)।
হেমন্তের আগমনধ্বনি যখনই নেমে আসে বাংলাদেশের প্রকৃতিতে, তখনই অতিথি পাখিরাও আসতে থাকে। হাজার মাইল দূরের সেই পাখিদের আগমনীতে প্রতিভাত হয় আল্লাহর অনন্যতা। তিনি প্রকৃতিতে নিয়ে আসেন নানা অবস্থা। আবার সে অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করে দেন তিনিই। তাই পাখিরাও তীব্র শীত থেকে বাঁচতে কম শীতের বাংলাদেশে চলে আসে। মুখর হয়ে ওঠে বাংলার বিল-ঝিল-সরোবর। ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ, প্রাণী, পশুপাখির জীবনযাত্রায় আসে পরিবর্তন। এসব পরিবর্তনের একমাত্র ক্ষমতা মহান আল্লাহর হাতে। তিনি এসব পরিবর্তনের মধ্যেই বান্দার জন্য রাখেন প্রভূত কল্যাণ আর ইতিবাচক শিক্ষা। বান্দার অভিব্যক্তি হিসেবে ভাষা পায় তা কোরআনে করিমে, 'আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান।' (সূরা আলে ইমরান : ২৭)। কালের এমন বিবর্তনের ব্যাপারে আল্লাহ আরও বলেন, 'নিশ্চয় আসমানগুলো ও জমিনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন।' (সূরা আলে ইমরান : ১৯০)।
হেমন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে শুরু হয় ওয়াজ মাহফিল। প্রতি রাতেই কোথাও না কোথাও বসে ইসলামী আলোচনার আসর। সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পরপরই শুরু হয় হালকা গরম কাপড় কাঁধে বয়স্কদের মাহফিলের দিকে হেঁটে চলা। চলতে থাকে কিশোর-যুবারাও। বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা না থাকায় এ সময়ই আমাদের দেশে বসে নানা আনন্দ-উৎসবও। হেমেন্তের সমাপনী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে নেমে আসে নবান্ন উৎসবের আনন্দ। রকমারি পিঠার আয়োজনে মেতে ওঠে পুরো দেশ। আল্লাহর গোলাম এসব আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি কৃতজ্ঞতায় নুয়ে যায়। সেজদায় অশ্রুপাতে দেয় শুকরিয়ার নজরানা। ষড়ঋতুর অন্যতম এ হেমন্ত আরাম-শান্তি-সুখ আর ইবাদতের ঋতু হয়ে ওঠুক আমাদের সবার মনে-অন্দরে।
লেখক : প্রভাষক, রাজঘাট দারুল উলুম সিনিয়র মাদরাসা, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা
Subscribe to:
Posts (Atom)


